মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ইসলামের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর শাহবাগে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে জাতি আজও সুস্পষ্ট অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধ যেমন বিভাজনের হাতিয়ার হতে পারে না, তেমনি ধর্মের নামেও দেশকে ভাগ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই—দুটিই জনগণের।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে মুজিববাদকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে রেখেছিল। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ। প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র বারবার বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর পুরোনো রাজনৈতিক বয়ান ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা থেকে নতুন এক জাতীয় বয়ান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর আঘাত। জনগণের নিরাপত্তা জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে এখনো সরকার ও আইনের শাসনের ওপর আস্থা রাখার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশজুড়ে গ্রাম, মহল্লা ও পাড়ায় পাড়ায় আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না, তবুও জনগণ নিজেরাই নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছিল। সেই ঐক্যের মাধ্যমেই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, শিশু-তরুণ—সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের মোকাবিলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে। একই সঙ্গে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। এনসিপির লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করা।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





