মনপুরার চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকটে থমকে শিক্ষা

Views: 30

ভোলার মনপুরা উপজেলার চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

মনপুরার বিচ্ছিন্ন কলাতলি ইউনিয়নে রয়েছে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে চলছে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ নম্বর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুইজন। ৪২ নম্বর চর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮২ জন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন দুই শিক্ষক। ৩ নম্বর মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন তিনজন। আর ২২ নম্বর মাছুমাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য চারজন শিক্ষক থাকলেও একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় কার্যত শিক্ষক সংকট বিদ্যমান।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলছে, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হয় না। অনেক সময় এক বা দুটি বিষয়ের বেশি পড়ানো সম্ভব হয় না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষার আগে যথাযথ পাঠ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, কলাতলির অধিকাংশ মানুষ জেলে ও কৃষক। আর্থিক সংকট ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে সন্তানদের উপজেলা সদরে পাঠানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারের কাছে দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১ নম্বর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “মাত্র দুই শিক্ষক দিয়ে ২০৬ শিক্ষার্থীকে পড়ানো সম্ভব নয়। অনেক সময় প্রশাসনিক কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়, আবার সহকর্মী অসুস্থ হলে একজনকেই পুরো স্কুল চালাতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিক্ষা পাচ্ছে না।”

৪২ নম্বর চর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শুকবল চন্দ্র দাস বলেন, “আমরা মাত্র দুইজন শিক্ষক। একজন না থাকলে পুরো স্কুল সামলানো সম্ভব হয় না। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে।”

মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, “বদলির কারণে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। শিগগিরই নতুন নিয়োগ এবং ডেপুটেশনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নিয়মিত পাঠ পাচ্ছে না। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ না দিলে মনপুরার চরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: September 29, 2025 | Author: Chandradip News24