ভোলার দ্বীপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উদ্দীপনা কমেছে। নদী ভাঙন, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা এবং জোটভঙ্গের প্রভাব নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট।
ভোলার চরাঞ্চলের মানুষজন, বিশেষ করে মৎস্যজীবী বিবি ফাতেমা, ছোট নৌকায় বসবাস করেও জীবিকার তাগিদে ভোটকে গৌণ মনে করছেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি আমাগোরে ডাকে তাইলে ভোট দিতে যামু, নইলে আর গিয়া কি করমু।” জেলার অন্যান্য গ্রামীণ ভোটাররা বলেন, ভোটের আগে আশ্বাস থাকলেও পরবর্তী সময় বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এক হলে ভোলার অন্তত তিনটি আসনে বিএনপির সঙ্গে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। তবে জোটভঙ্গের কারণে ভোটের সমীকরণ একপেশে হয়ে গেছে। বিএনপি প্রার্থীরা কিছু আসনে সুবিধা পেতে পারেন। জোট না থাকলেও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ভোলার ভোটাররা উন্নয়নমূলক কাজ, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটাররা প্রার্থীর পরিকল্পনা, উন্নয়ন ইশতেহার এবং ভোটের নিরাপত্তা দেখতে চাইছেন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভোটাররা কেন্দ্রে আসবেন যদি প্রচারণা এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
ভোলার রাজনৈতিক ইতিহাসেও দেখা গেছে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন না থাকলে বিএনপি এবং প্রধান দুই দলের প্রার্থী সহজ সুবিধা পেতে পারে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোলা-৩ ও ভোলা-৪ আসনে বিশেষ করে মৎস্য ও কৃষি পেশার মানুষ ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





