ভোলার চরফ্যাশনের এক বৃদ্ধা মায়ের জীবন এখন দুঃখের প্রতীক। বয়স ৯০ বছর, নাম ফজলেতুন নেসা। এক সময় ছিলেন সংসারের আলো, এখন আশ্রয় নিয়েছেন গরু রাখার গোয়াল ঘরে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সন্তানদের ঘরে তার ঠাঁই হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসতলা গ্রামে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী খলিল মোকাম্মেলের মৃত্যুর পর নিজের নামে থাকা প্রায় তিন শতাংশ জমি তিন ছেলের নামে দলিল করে দেন ফজলেতুন নেসা। কিন্তু সেই দলিলের পর থেকেই শুরু হয় তার দুর্ভোগের জীবন। একে একে ছেলেদের ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন একটি গোয়াল ঘরে।
প্রতিবেশীরা জানান, এখন ফজলেতুন নেসা হাঁটাচলাও করতে পারেন না। দিনের বেলায় রোদে পুড়েন, রাতে ঠাণ্ডায় কাঁপেন। অথচ পাশের ঘরেই তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে আরাম-আয়েশে জীবন কাটাচ্ছেন। গ্রামের যুবক আরিফ বলেন, “আমরা বারবার ছেলেদের বলেছি মাকে অন্তত একটু জায়গা দিতে, কিন্তু কেউই রাজি হয়নি। এখন গ্রামের মানুষই তাকে মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে সাহায্য করে।”
এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু ফয়েজ জানান,“এভাবে কোনো মা যদি নিজের সন্তানদের ঘরে ঠাঁই না পান, তাহলে সমাজে মানবিকতা কোথায় টিকবে? আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি, প্রয়োজনে সমাজসেবা অফিসেও জানানো হবে।”
বর্তমানে গোয়াল ঘরের এক কোণে পুরোনো কাপড় দিয়ে ঘেরা জায়গায় দিন কাটছে ফজলেতুন নেসার। মাথার ওপর ফুটো টিন, নিচে ভেজা মাটি। জীবনের এই কঠিন সময়েও তিনি কারও প্রতি অভিযোগ না করে চুপচাপ সহ্য করছেন সব কিছু।
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই অসহায় মায়ের জন্য একটি মানবিক আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





