বেহাল বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক, বর্ষণে খানাখন্দে দুর্ভোগ চরমে

Views: 20

টানা বর্ষণে পিচ নরম হয়ে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। প্রায় ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, যার ফলে যান চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।

সড়কটিতে প্রতিদিন চলাচল করে প্রায় দুই হাজার যানবাহন। পদ্মা সেতু চালুর পর পর্যটননগরী কুয়াকাটামুখী গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা যানবাহনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে।

পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা, আমতলী চৌরাস্তা, মানিকঝুড়ি, সাহেববাড়ি, আমড়াগাছিয়া, বান্দ্রা, শাখারিয়া ও পখিয়া—এসব এলাকাজুড়ে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। প্রতি ৫০ গজ পর পর খানাখন্দে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন চালকেরা।

শ্যামলী এনআর পরিবহনের চালক কেরামত আলী বলেন, “গর্ত এড়াতে গিয়ে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। যাত্রীরা আতঙ্কে থাকে।”
তুহিন পরিবহনের চালক কাওসার হাওলাদার জানান, “এই সড়ক দ্রুত সংস্কার না হলে আরও ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে।”

যাত্রী আল-আমিন জানান, “বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত যাত্রা কিছুটা স্বস্তির হলেও এর পরপরই ঝাঁকুনি, ধাক্কা আর ব্রেক কষে কষ্টকর যাত্রা শুরু হয়। সময়ও লাগে দ্বিগুণ।”

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে নির্মিত বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়লেও অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই সড়কের দেখভাল করে বরগুনা ও পটুয়াখালী সওজ বিভাগ।

বরগুনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী কমারেশ বিশ্বাস বলেন, “এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সড়কের পিচ আলগা হয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ টিম দিয়ে আপাতত মেরামত চলছে। বরাদ্দ পেলে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হবে।”

পটুয়াখালী অঞ্চলের সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ করিম বলেন, “ভোগান্তি কমাতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

যাত্রীরা দ্রুত এবং টেকসই সংস্কার চান। বর্ষা শেষে পুরো মহাসড়ক পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: August 1, 2025 | Author: Chandradip News24