বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের পানি প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, স্থানীয় বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু পরিবারের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে হাজারো পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বলেশ্বর ও কচা নদীর তীরবর্তী ইন্দুরকানী, পাড়েরহাট, বালিপাড়া, টগড়া, চাড়াখালী, কালাইয়া, ঢেপসাবুনিয়া, সাঈদখালী, চরবলেশ্বর, কলারন, চন্ডিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে রান্নাবান্না বন্ধ, অনেকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “মোগো কোলার সব ফসল তলিয়ে গেছে। ঘরে পানি ঢুকেছে, রান্না করা যাচ্ছে না। পরিবারের সবাই মিলে বিপাকে পড়েছি।”
উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, “জোয়ারের পানিতে আশি শতাংশ আমনের বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। পানি নামা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব নয়।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে এই দুর্যোগ বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সাময়িক বালির বস্তা ও কাঁচা মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরি হলেও তা কার্যকর সমাধান নয়।
পাড়েরহাট ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“স্লুইসগেট না থাকায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টগড়ায় করা বেড়িবাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত। এখানকার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ প্রয়োজন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি এরিয়াতে এখনো বড় কোনো প্রকল্প নেয়নি। বরাদ্দের অভাবে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বালিপাড়া ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “টেকসই বেড়িবাঁধ না হলে ঘন ঘন দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের আলোকে দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ প্রকল্প সময়ের দাবি।”
ইন্দুরকানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার জানান, “প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”
এস এল টি /





