বাক ও দৃষ্টিহীন রাশিদা বেগম: সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, জীবন সংগ্রামের পথে

Views: 18

মানুষের জীবন কখনো কখনো সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দেয়। রাশিদা বেগম সেই নিঃসঙ্গতার জীবন্ত উদাহরণ। বাক ও দৃষ্টিহীন এই নারী, স্বামীহীন, গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে প্রতিদিনের রুটি-রুজির জন্য ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করছেন। পাশাপাশি ৮ বছরের একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের মৃত নুরু চৌধুরীর মেয়ে রাশিদা বেগম। জন্ম থেকেই বাক প্রতিবন্ধী হলেও তার দু’চোখে ছিল আলো দেখার স্বপ্ন। বিয়ের দুই বছর পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দৃষ্টি হারান তিনি। স্বামীর সংসার থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাবা-মাও মৃত্যুবরণ করার পর রাশিদা একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন।

বর্তমানে রাশিদা বেগমের কাছে নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই খাদ্য বা চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ। বাজার, মসজিদের সামনে বা রাস্তায় বসে সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন কাটান। স্থানীয় মানুষের সামান্য সহায়তায় বেঁচে থাকলেও সরকারি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বা পুনর্বাসন সুবিধা তিনি এখনো পাননি। কখনো খোলা আকাশের নিচে, কখনো প্রতিবেশীর বারান্দায় রাত কাটাতে হয় তাকে।

রাশিদার একমাত্র ছেলে ৮ বছর বয়সী। মা–ছেলের জীবনযাত্রা বর্তমানে অনিশ্চিত। শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মৌলিক জীবনচাহিদা পূরণে রাশিদা অভিভাবক হিসেবে প্রায় একা লড়ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “এরকম অসহায় মানুষদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, “অসহায় রাশিদা বেগমের খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।” যদিও সরকারি সহায়তার আশ্বাস আছে, বাস্তবে তার জীবনযাত্রা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

রাশিদা বেগমের কষ্টময় মুখে এবং চোখে প্রতিফলিত জীবনের যন্ত্রণার গল্প আমাদের মানবিক সহানুভূতির আবেদন জানায়। তার বয়সের শেষভাগে মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা এবং সন্তানের জন্য সুরক্ষিত জীবনই যেন একমাত্র আকাঙ্ক্ষা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: January 14, 2026 | Author: Chandradip News24