বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব এবং সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে নতুন ধাপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পুঁজিবাজারে থিম্যাটিক বন্ড বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বন্ডের বাজারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বুধবার দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স কোলাবোরেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা, থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুকারীদের ইস্যুর আগে ও পরে কারিগরি সহায়তা, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কাজ করার সুযোগও থাকবে।
এছাড়া ইউএনডিপি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, বন্ড রিপোর্টিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রভাব পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রবর্তন এবং তৃতীয় পক্ষীয় সত্যায়ন ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিন, সোশ্যাল, ক্লাইমেট, এসডিজি ও অন্যান্য থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হবে।
থিম্যাটিক বন্ড হলো একটি বিশেষ ধরনের বন্ড, যার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:
- গ্রিন বন্ড: পরিবেশবান্ধব প্রকল্প যেমন সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
- সোশ্যাল বন্ড: স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
- সাসটেইনেবিলিটি বন্ড: গ্রিন ও সোশ্যাল প্রকল্প উভয়ের জন্য।
- ক্লাইমেট বন্ড: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন।
- এসডিজি বন্ড: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমাদের লক্ষ্য বাজার ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন, সুশাসন জোরদার করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করা। থিম্যাটিক বন্ডের বিকাশ পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের মাধ্যমে পরিবেশ ও সামাজিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আহরণের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে, মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।”
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির বাংলাদেশের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. মালিহা মুজাম্মিল, কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারে এবং বিএসইসির কমিশনার মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





