চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০২৫, বরিশালে পালিত হয় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় ৯ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অন্তত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
বরিশাল নগরীর ডিসিঘাট, সদর রোড ও ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় দিনভর চলা এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা জানান, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতা, মামলা ও পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের বরিশাল শাখার অন্যতম সমন্বয়ক হুজাইফা রহমান জানান, “৮ ও ৯ জুলাই আন্দোলনের সূচনা থেকে ছাত্রসমাজ একত্রিত হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মাঠে নামে। ৩১ জুলাই ছিল তারই একটি বড় অংশ।” তিনি বলেন, “সেদিন পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ চালায়, গ্রেফতার করে ১২ জন শিক্ষার্থী ও এক প্রতিবন্ধী পথচারীকে।”
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন:
হুজাইফা রহমান, নাঈম খান, অর্পিতা নন্দী বহ্নি, রাশেদুল হাসান, মো. আরাফাত, লামিয়া সাইমন (সকলেই বিএম কলেজ), রাকিবুল ইসলাম শিহাব ও জান্নাতুল ফেরদৌস তানমিম (মানিক মিয়া কলেজ), মো. হাসিববিল্লাহ (বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়), আব্দুল্লাহ মামুন (পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট)। বাকি ৩ জনের নাম জানা যায়নি। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন।
বরিশাল জেলা বার সমিতির প্রবীণ আইনজীবী ও কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক জেলা সভাপতি এ.কে. আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে পুলিশ যেভাবে দমন চালিয়েছে, তা অনৈতিক। আমি নিজে আইন সহায়তা দিতে থানায় ছুটে গেছি।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মেস রায়ও থানায় গিয়ে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়ে ছাত্রদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি বিবেকের দায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীরা গ্রেফতার ও লাঠিচার্জের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





