বরিশালে মানহীন রেস্টুরেন্টের দৌরাত্ম্য: প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা

Views: 34

প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে বরিশাল নগরীতে অসংখ্য মানহীন রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত দাম, পুরনো তেল ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ এসব খাবার প্রতিদিনই ভোক্তাদের ক্ষতির কারণ হলেও যথাযথ নজরদারি না থাকায় এ ধরনের অনিয়ম বাড়ছেই।

নগরীর হাসপাতাল রোডের সিলভার স্পুন রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে ক্রেতা মহিউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “তাদের দাম বেশি, কিন্তু খাবারে থাকে প্রতারণা। এক টুকরো মাংস কেটে দুই-তিনটি আইটেম তৈরি করে বিক্রি করছে। চিকেন ফ্রাইয়ের জন্য কেটে রাখা অংশ থেকেও মাংস সরিয়ে নুডুলস বা সালাদে ব্যবহার করে। ফলে ফ্রাই ছোট হয়ে যায়।”

এছাড়াও ক্যাসিনো সালাদে কাজুবাদামের পরিবর্তে চিনা বাদাম, শসা ও সামান্য চিকেন ব্যবহার করা হয়। সস্তায় কেনা নিম্নমানের চাষের চিংড়িও নানা পদে পরিবেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, পুলিশ লাইনস এলাকার রাস্টিক রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে ভোক্তা আরিফুর রহমান জানান, “এখানে খাবারের দাম অন্য রেস্টুরেন্টের তুলনায় তিনগুণ বেশি। মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”

এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে নগরীর আড়ং রেস্টুরেন্ট শাখা, বটতলার মুভিদা রেস্টুরেন্ট এবং পুলিশ লাইন্সের সিনামিন রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধেও। এসব জায়গায় অতিরিক্ত সস ও কেমিক্যালযুক্ত খাবার পরিবেশন করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে বরিশালের বাসিন্দা ডা. আল আমিন বলেন, “পুরনো তেল বা নষ্ট মশলা দিয়ে রান্না করা খাবার কখনো স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে না। ফ্রিজে দীর্ঘদিন রাখা মাছ বা মাংস থেকেও ব্যাকটেরিয়া ও দুর্গন্ধ তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”

একইভাবে ভোক্তা জিয়াউর রহমান জানান, শহরের জুসবারগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। “জুসের নামে ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়। কিছু দোকানে আম, মালটা, ড্রাগন ফল দিলেও পরিমাণ খুবই কম। ফলে ভোক্তারা আসল জুসের পরিবর্তে কেমিক্যাল খাচ্ছেন।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের অনেক রেস্টুরেন্টেই সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সনদ, জেলা প্রশাসনের নিবন্ধন, পর্যটন কর্পোরেশনের লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্রেড লাইসেন্স এমনকি ফায়ার লাইসেন্স পর্যন্ত নবায়ন নেই। কয়েকটি রেস্টুরেন্টের কোনো লাইসেন্সই নেই।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস জানান, “ভোক্তা প্রতারিত হলে অভিযোগ করলে প্রমাণ সাপেক্ষে জরিমানা ও জেল দেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি অন্য দিকগুলোতেও আমাদের নজরদারি বাড়ানো হবে।”

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখনও কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাই দ্রুত মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: September 12, 2025 | Author: Chandradip News24