পৌষ মাস শুরু হলেও বরিশাল অঞ্চলে শীতের তেমন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। চলতি সপ্তাহে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ ডিগ্রি বেশি। মাঝারি কুয়াশা থাকলেও তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিক মাত্রায় নামেনি।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ভোরে একদিনের জন্য তাপমাত্রা নেমে আসে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল স্বাভাবিকের নিচে। তবে এরপর থেকে আবারও উষ্ণতা বাড়তে শুরু করেছে।
শীতের দাপট কম থাকায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন শাক-সবজি ও কিছু ফসলে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তবে এখনো বোরো ধানের বীজতলা তৈরির জন্য আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে উপযোগী রয়েছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে শীত মৌসুম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে না নামলে গম উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ এবং ৬০ হাজার হেক্টরে গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত ও বোরো বীজতলা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ থাকায় এখন পর্যন্ত বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দেয়নি। পাশাপাশি শীতকালীন রোগব্যাধির প্রকোপও কিছুটা সহনীয় থাকলেও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে, যার প্রভাব উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ অবস্থায় আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা নেই।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





