বরিশালে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের সবগুলো নদী ও নালার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও পানি জমে গেছে।
বিশেষত, বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচলও দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। নদী বন্দরে ২ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বিপদে পড়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ কিলোমিটার।
বরিশাল শহরসহ অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বগুড়া রোড, মুন্সির গ্যারেজ, শীতলাখোলা মোড়, জিয়া সড়কসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে গেছে। যার ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
বগুড়া রোডের বাসিন্দা মিসবাহ হোসেন জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হয়ে গেছে, এবং টানা বৃষ্টির ফলে বাসা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক শেখ বলেন, তার দোকানে পানি ঢুকে গেছে এবং মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নগরবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
এছাড়াও বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মেঘনা তীরবর্তী হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, স্বরূপকাঠি, ভান্ডারিয়া, বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /





