বরিশালের গৌরনদী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে গাণিতিক চিহ্ন ব্যবহার করে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের টেস্ট বাণিজ্যে নিয়োজিত থাকার এবং রোগীর ব্যবস্থাপত্রে একই ওষুধ দুইবার লেখার মাধ্যমে ভুলভাল চিকিৎসা সেবা দেওয়ার।
স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা হাসপাতালের বাইরে থাকা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে এক শ্রেণীর চিকিৎসকরা গোপনে কমিশন বাণিজ্য করছেন। রোগীর টেস্টের ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর ফলে রোগীরা বাধ্য হয় ওই সেন্টারে টেস্ট করাতে, অন্যত্র গেলে হয়রানির শিকার হন।
ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শাহাদাত মৃধা নামে এক ব্যক্তি জানান, তার মামিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক টেস্টের জন্য ‘৭’ নাম্বারের গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠান। অন্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে গেলে রোগীর প্রতি গরম আচরণ করা হয় এবং ভুল ওষুধও দেওয়া হয়।
গত ২০২২ সালে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়াও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ডা. মনিরুজ্জামান রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপির সমর্থক দাবি করে ক্ষমতার প্রভাব বজায় রেখেছেন।
অভিযুক্ত ডা. মনিরুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ভুলভাল ওষুধ লেখার কথা স্বীকার করেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনকে দেওয়া হয়েছে এবং প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





