স্কুল, কলেজ, অফিস কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণ—প্লাস্টিকের বোতলের পানি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সহজলভ্য ও নিরাপদ মনে করেই আমরা প্রায় কোনো দ্বিধা ছাড়াই এটি পান করি। কিন্তু এই অভ্যাসটি ধীরে ধীরে শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে নারীদের হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ নমামি আগারওয়াল।
তিনি প্লাস্টিকের বোতলের পানি ও পিসিওস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম)-এর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার মতে, বিষয়টি অবহেলা করার সুযোগ নেই, কারণ এর প্রভাব নীরবে হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, একটি এক লিটার প্লাস্টিকের বোতলে প্রায় দুই লাখের বেশি ন্যানো-প্লাস্টিক কণা থাকতে পারে। এসব অতিক্ষুদ্র কণা অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে সক্ষম। এ কারণেই প্লাস্টিকের বোতলের পানিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিপিএ (Bisphenol A)। এই রাসায়নিক উপাদান প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের কন্টেইনার এবং টিনজাত খাদ্যের আস্তরণে ব্যবহৃত হয়। বিপিএ শরীরে প্রবেশ করলে এটি নকল ইস্ট্রোজেনের মতো আচরণ করে এবং প্রকৃত হরমোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।
পিসিওস-এ আক্রান্ত নারীদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ পিসিওস নিজেই একটি হরমোনজনিত জটিলতা। এর সঙ্গে বিপিএ যুক্ত হলে শরীরে ইস্ট্রোজেন ডমিন্যান্স তৈরি হতে পারে। এর ফল হিসেবে ডিম্বাশয়ে সিস্টের সমস্যা বাড়তে পারে, ব্রণ ও চুল পড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, ওজন দ্রুত বাড়তে পারে এবং মাসিক অনিয়মিত হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য কিছু করণীয়ও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে স্টিল বা কাচের বোতল ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। একইভাবে খাবার সংরক্ষণেও প্লাস্টিকের বদলে নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিকের বোতল যতটা সুবিধাজনক মনে হয়, এর নীরব ক্ষতিও ততটাই গভীর। বিশেষ করে পিসিওস-এ আক্রান্ত নারীদের জন্য সচেতন সিদ্ধান্তই হতে পারে সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





