চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই রেমিট্যান্সে এসেছে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯২ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে)। এই অঙ্কটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।
রোববার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন স্বস্তি এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর নজরদারি, প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৩২ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা)। এর আগে আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স ছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা) এবং জুলাই মাসে আসে ২৪৮ কোটি ডলার (প্রায় ৩০ হাজার ২৩০ কোটি টাকা)। ধারাবাহিকভাবে তিন মাসের এই রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রমাণ করে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হয়ে উঠেছেন।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি দেশের ডলার সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে ব্যাংকগুলো এখন আরও দ্রুত লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা ও বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুবিধা বাড়ায় রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রবাসী আয় ভবিষ্যতেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে—এমনটাই আশা অর্থনীতিবিদদের। তাদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি ডলার দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে, যা উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





