২০২৫ সালে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের প্রিয়জনদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। ৪১ লাখ বিকাশ ব্যবহারকারী এই অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বৈধ ও নিরাপদ পদ্ধতিতে, সঙ্গে সঙ্গে রেমিটেন্স পাঠানোর সুবিধা প্রদান করায় বিকাশ প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে বিশ্বাসের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে।
একই বছরে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি। এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রেমিটেন্সের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিকাশের মতো এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পৌঁছে যাওয়ায়, এটি আরও বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে প্রায় ১৭০টি দেশ থেকে প্রবাসীরা ১৩৫টি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও) ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে রেমিটেন্স পাঠাতে পারছেন। দেশে এসে এই অর্থ ২৭টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে সেটেলমেন্ট হয় এবং প্রতি হাজারে ২৫ টাকার সরকারি প্রণোদনা সমেত তা প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে।
রেমিটেন্সের হিসাব রাখা আরও সহজ করতে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘রেমিটেন্স স্টেটমেন্ট’ সেবা। এর মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা তাদের অ্যাকাউন্টে আসা রেমিটেন্সের বিবরণ দেখতে পারেন এবং প্রয়োজনে স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে পারেন, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক।
বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ শুধুমাত্র মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিং নয়, এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৫০০-এরও বেশি এটিএম বুথ ও স্থানীয় এজেন্ট পয়েন্ট থেকেও সহজে ক্যাশ আউট করা যায়। এটিএম বুথ থেকে প্রায় হাজারে মাত্র ৭ টাকায় গ্রাহকরা এই সুবিধা গ্রহণ করছেন।
এছাড়া, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রাপ্ত রেমিটেন্স দিয়ে তারা ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, শিক্ষা ফি প্রদান এবং দৈনন্দিন কেনাকাটার অর্থনৈতিক লেনদেনও করতে পারছেন, যা প্রবাসী অর্থ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং সহজতর করেছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





