প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর: একমত বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো

Views: 97

এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারবেন—এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও দলগুলো একমত হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দল অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তা হলো—এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জাতীয় সনদে এ শর্তটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা পূর্বেই বলেছি, কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তবে এ বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় নিতে হবে। না হলে আমাদের পূর্বের শর্ত বহাল থাকবে।”

স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবে সম্মতি

সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও সম্মতি প্রকাশ করে। কমিশনের লক্ষ্য হবে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি।

কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এ কমিশন নেতৃত্ব দেবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি (যার বয়স ৭২ বছরের নিচে), সদস্য সচিব হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি (যার বয়স ৬২ বছরের নিচে)।

কমিশনে থাকবেন:

  • সরকার ও বিরোধীদলের প্রতিনিধি (সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার)
  • একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী (১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন)
  • একজন মানবাধিকার কর্মী (১০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন)
  • একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি

কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হবেন। সদস্য মনোনয়নের জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং একজন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক।

কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পূর্ণকালীন দায়িত্বে থাকবেন, বাকিরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যরা সম্মানী বা ভাতা নিতে পারবেন।

সবশেষে জানানো হয়, কমিশনের সদস্যদের দায়িত্ব, ক্ষমতা, অপসারণ ও জবাবদিহিতা একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নীতিগত ও নির্বাহী সিদ্ধান্তগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে।

image_pdfimage_print

Posted on: July 27, 2025 | Author: Chandradip News