পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের ৪০ লাখ টাকার ফাইল গায়েব এবং অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (সিএ) মো. ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই অর্থ লোপাট করা হয়েছে:
-
উপজেলা ডরমেটরি ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা ১০ লাখ টাকা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিকের প্রতিষ্ঠান ‘শফিক এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে নামমাত্র কাজের আড়ালে ব্যবহার করা হয়েছে।
-
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের সামনের রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা ২০ লাখ টাকা সদর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মোজাম খানের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে লোপাটের অভিযোগ।
-
ইউএনও অফিস সংস্কারের নামে বরাদ্দ করা ১০ লাখ টাকা পার্শ্ববর্তী কাউখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমনের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আল মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াসির আরাফাত তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিচিতদের লাইসেন্স ব্যবহার করে লোক দেখানো দরপত্রের মাধ্যমে কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নামমাত্র কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন।
তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেছেন, “আমি এই কাজ বা বরাদ্দ সম্পর্কে কিছুই জানি না।”
অডিটে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কাজের কোনো ফাইল দেখানো যায়নি। অডিটর নূরে আলম জানান, তদন্তে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, বিশেষ করে নাজিরপুর সদরের পাকমঞ্জীল মাদরাসা এবং বৈরাগী এলাকার প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
তৎকালীন ইউএনও মো. ফজলে রাব্বি বলেন, “অফিস থেকে ফাইল গায়েব হওয়ার কথা নয়। ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো ফাইলে সই করিনি। কাজ শেষ হওয়ার আগে বিল উত্তোলনের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাব।”
মূল অভিযুক্ত সিএ মো. ইয়াসির আরাফাত নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করে বলেন, “এসব বিষয়ে এখন কোনো কথা বলব না, অফিসে আসেন।”
বর্তমান ইউএনও শাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন, তাই আগের কাজের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫





