প্রকৃতির কোলে পাখি আর মানুষের এক অদ্ভুত বন্ধন গড়ে উঠেছে কলাপাড়ার বালিয়াতলী ইউপির পূর্ব মধুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেনের বাড়িতে। চারপাশে অসংখ্য গাছপালা আর নিরাপদ পরিবেশে পাখিরা এখানে বাঁচছে স্বাধীনভাবে। ফলে জন্মেছে এক অনন্য সম্পর্ক, যেন জনম-জনমের বন্ধনে আটকা পড়েছে পাখি ও মানুষের অমায়িক প্রেমের কাহিনি।
বাড়িটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখিবাড়ি’ নামে। দিনভর পাখিদের কলকাকলি এবং মিষ্টি ডাকুনিতে মুখরিত হয় চারপাশ। বিভিন্ন প্রজাতির সাদা বক, পানকৌড়ি ও বাদুড় নিরাপদে এখানে বসবাস করছে। গাছের শাখায় তাঁদের খুনশুটি আর কলতান চোখে পড়লেই মনে হয় এটি যেন পাখিদের মিলন মেলা।
শিক্ষক আখতার হোসেন বলেন, “অনেক আহত পাখি আমাদের বাড়িতে আশ্রয় পায়। তাদের চিকিৎসা এবং খাবার দেওয়া হয়। আমাদের পরিবারের সবাই পাখিদের নিরাপত্তার জন্য সর্বদা নজর রাখে।” তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, পাখির অসংখ্য মলত্যাগের কারণে বাড়িতে কিছুটা বিরক্তি থাকলেও সেগুলোকে দূর করতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয়।
স্থানীয়রাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। মিরাজ নামের একজন বাসিন্দা বলেন, “ছোট থেকেই দেখি আক্তার স্যারের বাড়িতে পাখির আনাগোনা। পাখির ডাক শুনলেই প্রাণ জুড়ে যায়। আমরা সবসময় খেয়াল রাখি যেন কোনো সমস্যা না হয়।” অন্য বাসিন্দা মকবুল খান যোগ করেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পাখিরা এখানে নিরাপদে আছে। শিক্ষক ও তার পরিবার সবসময় তাদের যত্নে রাখে।”
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম মনিরুজ্জামান জানান, ‘পাখিবাড়ি’ নামে পরিচিত শিক্ষক আখতার হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করে আনন্দিত হয়েছেন। বন বিভাগ পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখবে।
এ বাড়িটি প্রমাণ করে, মানুষের ভালোবাসা আর প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা একত্রে থাকলে কীভাবে একটি নিরাপদ ও সুখী বাসস্থান তৈরি হতে পারে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





