পরিবহন সংকটে বিপাকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

Views: 28

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) তীব্র পরিবহন ও জনবল সংকটে ধুঁকছে। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাতায়াতের জন্য বর্তমানে মাত্র ২৪টি বাস থাকলেও চালক রয়েছেন মাত্র ১১ জন এবং হেল্পার ৮ জন। সীমিত পরিবহন ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ যানবাহন ও লোকবল ঘাটতিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ীভাবে ৩টি রুট এবং নতুন করে যুক্ত হওয়া আরও ৩টি রুটে প্রতিদিন ২৪টি বাস চলাচল করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ১৩টি, ভাড়ায় নেওয়া বিআরটিসির ডাবল ডেকার ৮টি ও একতলা বাস ৩টি। তবে ধানসিঁড়ি বাস দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, চলন্ত বাস নষ্ট হয়ে যাওয়া, ঠেলে চালু করতে হওয়া কিংবা ছাদের ফাঁটল দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যায় প্রায়ই পড়তে হচ্ছে। আবাসিক সুবিধাবঞ্চিত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন শহর থেকে যাতায়াত করতে হয়, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পরিবহন পুল সূত্র আরও জানায়, ইউজিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৫টি গাড়ি কেনার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২৫টি যানবাহন। এর মধ্যে ১৩টি বাস, ৫টি মাইক্রোবাস, ২টি জিপ, ১টি কার, ১টি অ্যাম্বুলেন্স ও ৩টি মোটরসাইকেল। ২০২০ সালের পর আর কোনো নতুন বাস পাওয়া যায়নি। যদিও নতুন পরিবহন ক্রয়ের জন্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে নতুন বাস কেনা সম্ভব হয়নি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অমিয় মণ্ডল বলেন, “পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পরিবহন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। অথচ সীমিত বাসের কারণে প্রতিদিন কষ্ট করতে হচ্ছে। আমরা চাই রেগুলার রুটে যেন কেউ দাঁড়িয়ে যাতায়াত না করে এবং নতুন রুটে নড়বড়ে বাস ব্যবহার না হয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন হাওলাদার বলেন, “বাসের সংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় অটো বা পিকআপে যাতায়াত করতে হয়। যদি পটুয়াখালীসহ নিকটবর্তী জেলা শহরে বাস চালু করা হয়, তাহলে অনেক শিক্ষার্থী আরও সহজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।”

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক বলেন, “ওভারলোডের কারণে অনেক সময় ২৮ সিটের মিনিবাসে ৫৬–৫৮ জন যাত্রী বহন করতে হয়। এতে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।” তাদের মতে, বর্তমান পরিবহন সচল রাখতে কমপক্ষে ৩০ জন চালক প্রয়োজন।

পরিবহন পুলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান জানান, “বিআরটিসি বাসগুলো ভাড়া করা, সেগুলোর চালক ও মেরামতের দায়িত্ব বিআরটিসির। তবে সংকট মোকাবিলায় সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির অনেকটাই পূরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি নতুন বিআরটিসি বাস যুক্ত হয়েছে, আরও দুটি শিগগিরই যুক্ত হবে। পাশাপাশি তিনটি দূরপাল্লার রুট চালু করা হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: September 11, 2025 | Author: Chandradip News24