পটুয়াখালী পৌর গোরস্থানে দীর্ঘ এক মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল। জঙ্গল, ঝোপঝাড় ও আগাছায় ভরাট হয়ে পড়া এ গোরস্থান দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন থাকায় মৃতদেহ দাফন ও কবর জিয়ারতে আগত মানুষকে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়তে হতো।
এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করায় গোরস্থানে আগাছা ও ঝোপঝাড় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। কর্তৃপক্ষ সানন্দে বিষয়টি গ্রহণ করে এবং তাদের কারিগরি ও সরঞ্জামাদি সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার করে।
গত ৮ আগস্ট থেকে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী প্রায় ৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ গোরস্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত এই গোরস্থানে জায়গার অভাব ও আগাছার আধিক্যের কারণে দাফনকাজ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এক মাসের পরিশ্রমের পর গোরস্থানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগের সমাপ্তি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১টার দিকে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মাহবুব আলম, জেলা বিএনপি নেতা বশির আহম্মেদ মৃধা ও মিজানুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ছাত্রদল মানবিকতার টানে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসারে মানুষের পাশে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে অঙ্গীকার, এই কার্যক্রম তারই প্রতিফলন। জাতীয়তাবাদী দল মানুষের দল—আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণে, এবং ছাত্রদলসহ সকলে সর্বত্র সচেষ্ট থাকব।”
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জুয়েল রানা বলেন, “চলতি বছরে অতিবৃষ্টির কারণে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে পৌর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা শুরু করবে। জেলা ছাত্রদল বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছি।”
এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়রা জানান, এখন কবর জিয়ারত ও দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যাবে।





