পটুয়াখালীতে এলজিইডি প্রকল্প থেমে জনদুর্ভোগ

Views: 26

পটুয়াখালী থেকে মো: রিপোর্টার — উপকূলীয় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় যে উন্নয়ন কাজগুলো নেওয়া হয়, তাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ও স্থগিত থাকায় স্থানীয় জনগণকে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। করমজাতলা সড়ক থেকে বহালগাছিয়ার ড্রেনেজ, গলাচিপার ছোনখোলা, কলাপাড়ার বালিয়াতলী ও মির্জাগঞ্জের চরখালিসহ একাধিক স্থানে কাজ থেমে আছে; রাস্তায় ধুলোবালু ও কাদা, ভাঙ্গা সেতুর পাশে নৌকা পারাপার—এ সকল দৃশ্য এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলজিইডির অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ২২টি প্রকল্প অগ্রগতি বন্ধ বা খুব ধীরগতিতে চলছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে দুটি প্রকল্প ছাড়া অনেকে মাঝপথে থেমে গেছে। মোট প্রকল্প ব্যয় ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ২০২১ থেকে ২০২৩ অর্থবছরে ঠিকাদারি কাজগুলি ইফতি ইটিসিএল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম—যার নাম স্থানীয়ভাবে ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচিত। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একাধিপত্যের কারণে ওই ঠিকাদারের নেওয়া প্রকল্প থেকে যে আটকসাপোর্ট বা লেনদেন হয়েছে, তার ফলেই কাজ সম্পন্ন হয়নি।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই রাস্তায় চলতে গেলে আমাদের নিজেরাই মাটি ফেলে নিতে হয়। এক বছর ধরে ঠিকাদারের দেখা নেই। খুব কষ্টে আছি আমরা।” অন্য একজন গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, “খোয়ার মধ্যে হাঁটতে গিয়ে জুতা নষ্ট হয়, মাসে তিন জোড়া জুতা লাগে—গরিব মানুষ কই পাবে এত টাকা? আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।” অনেকে সরাসরি অভিযোগ করছেন যে ঠিকাদার কাজের অর্ধেক করেও পুরো টাকা তুলেছে এবং ধীরে ধীরে দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে এলজিইডির পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হোসেন আলী মীর সাংবাদিকদের জানান, “ইফতি ইটিসিএল-এর ২২টি প্রকল্পের গড়ে অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ হলেও ঠিকাদার অনুপস্থিত থাকায় কাজ থেমে আছে। স্থানীয় ঠিকাদাররাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ সকল শর্তে চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; নির্দেশনা মেলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকল্প অর্ধway অবস্থায় আছে সেগুলো দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

এলজিইডির তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত ২২টি প্রকল্পের মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, গলাচিপায় ৩টি, মির্জাগঞ্জে ৩টি, কলাপাড়ায় ২টি, দুমকিতে ১টি ও রাঙ্গাবালীতে ১টি প্রকল্প রয়েছে। এদের মধ্যে ৭টি প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ বা পুনর্বাসন কার্যক্রম রয়েছে; তবে কাজের গড় অগ্রগতি ৫০ শতাংশ ছোঁয়নি। এলজিইডির অভ্যন্তরীণ যাচাইয়ে কিছু প্রকল্পে অস্বাভাবিক অগ্রগতির হিসাব বা দস্তাবেজের অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে—যা তদন্তের দাবি করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, অসমাপ্ত সড়ক ও ভাঙা ব্রিজগুলোর কারণে নিত্যপণ্যের পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে আসে এবং জরুরি সেবাও প্রভাবিত হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী জানান, “রাস্তায় কাদায় গাড়ি আটকে যায়, সময় নষ্ট হয়; পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে—এগুলো যেভাবে চলতে থাকবে জনগণের উপকার হবে না।”

জেলার সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাইলেও অন্যরা দাবি করেন—কেবল স্থানীয় ঠিকাদারি পরিবর্তন করলেই হবে না, প্রকল্পগুলোর তদারকি ও আর্থিক হিসাব-নিকাশে যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা উচ্চ তলায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন; প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অপরদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে এই ধরনের কাজের দীর্ঘস্থায়ী স্থগিতাদেশ ও অনিয়ম নিয়ে বেশ মুখোশহীন আলোচনাও শুরু হয়েছে। সাবধানতামূলকভাবে সংশ্লিষ্টরা অনুরোধ করেছেন—শতকরা অভিযোগ ও স্থানীয় অসন্তোষের মাঝেও প্রশাসনিক তদন্ত-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকল্প পুনরায় ধারাবাহিকভাবে শুরু করা যায় এবং জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: September 19, 2025 | Author: Chandradip News24