নির্বাচন ভীতদের উদ্দেশে যা বললেন আমির খসরু
📍 ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫ (ঢাকাপোস্ট প্রতিবেদক)
নির্বাচন থেকে দূরে সরে যাওয়া ও নানা অজুহাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অপচেষ্টাকারীদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “নির্বাচনকে যারা ভয় পায়, তারা প্রেশার গ্রুপ হিসেবেই থাকুক।”
শনিবার (১২ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত ‘অপূর্ণ জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ধ্বংস নয়, অংশগ্রহণে আহ্বান
আমির খসরু বলেন, “যারা মনে করেন, নির্বাচন পিছিয়ে দিলে শক্তি সঞ্চয় করে পরে ভোটে নামা যাবে — তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বরং তারা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে থাকলে গণতন্ত্রের জন্য তা ইতিবাচক হবে।”
তিনি বলেন, “সিভিল সোসাইটি দরকার, প্রেশার গ্রুপ দরকার। কিন্তু নির্বাচনকে ধ্বংস করা নয়, প্রক্রিয়ার অংশ হয়েই কাজ করতে হবে।”
মানুষই দেশের মালিক, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে
খসরু বলেন, “সমস্যার সমাধান কোনো কমিশন বা ঢাকায় বসা ‘বিজ্ঞ ব্যক্তি’ দিতে পারবে না। দেশের মালিক হলো জনগণ, তারাই নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “কমিশনে গিয়ে মতামত দেওয়া জরুরি, তবে সব বিষয়ে ১০০% ঐকমত্য সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এর মধ্য দিয়েই চলতে হবে।”
গণতন্ত্রের সঙ্গে অর্থনীতিরও রূপান্তরের দাবি
বিএনপির এই নেতা বলেন, “শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও গণতন্ত্রায়ন প্রয়োজন। রাজনীতি গণতান্ত্রিক হলেও অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা যদি অনুগত ও বৈষম্যমূলক হয়, তবে তা টেকসই গণতন্ত্র হতে পারে না।”
সভায় অন্যান্য বক্তাদের উদ্বেগ ও মন্তব্য
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চরম দক্ষিণপন্থীদের উত্থান হয়েছে। গত ১৫ বছরে বাম প্রগতিশীলদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি ছিল।”
তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি অনিশ্চিত থাকে বা স্থগিত রাখা হয়, তাহলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।”
গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত হতাশ করছে। সরকার যেন কানামাছি খেলছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “এখন আবার ‘কিংস পার্টি’ তৈরি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, আমরা এটা চাই না।”
বাংলাদেশ মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না
সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, “লন্ডনের বৈঠকের পর কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল, কিন্তু নতুন রাজনৈতিক দলগুলো এখন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশকে মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।”
সভায় অংশ নেওয়া নেতারা
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।





