‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক জামায়াতের, রংপুরে বিশাল জনসমুদ্র

Views: 19

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে বিভাগীয় জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (৪ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ নানা যানবাহনে করে সভাস্থলে পৌঁছান।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং নির্বাচনের পূর্বশর্তসহ চার দফা দাবি জানিয়ে আয়োজিত এ জনসভা ঘিরে রংপুর জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাগমে এই জনসভায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন সদ্য কারামুক্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা উপলক্ষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে নির্মাণ করা হয় বিশাল মঞ্চ। নারী দর্শনার্থীদের জন্য পর্দাসহ পৃথক জায়গায় বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়। সভাস্থলে প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয় অতিরিক্ত দুটি গেট। সভাকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর নগরে তোরণ, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ব্যানারে সাজানো হয়। মাইকিং, গণসংযোগ ও বিশাল মোটরসাইকেল র‌্যালির মাধ্যমে জনসভা সফল করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ১৩টি উপ-কমিটি, প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “এই জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে ফলাফল ঘরে তুলতে চাই। এই জনসভা হবে নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট।”

সভায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার—যেখানে “১৮ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার”—এমন দাবিও উঠে আসে। জনসভা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জামায়াত নেতারা জানান, জনগণের মধ্যে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। তাদের দাবি, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গঠনের পথে এই জনসভা একটি বড় সূচনা।” জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

image_pdfimage_print

Posted on: July 4, 2025 | Author: Chandradip News