দেশের ভবিষ্যৎ বদলের নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

Views: 17

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, এই নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এটি সুষ্ঠু হতেই হবে।”

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন ঘিরে নানা পর্যবেক্ষণ, উদ্বেগ ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বৈঠকে এনসিপি নেতারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে তাঁদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে নির্বাচনী পরিবেশ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা কিছু উদ্বেগের কথা প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, যাতে কেউ আইন অমান্য করতে না পারে।”

তিনি আরও জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। “এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে বডি ক্যামেরা, যা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইনসম্মতভাবেই সরকার জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে এবং কেন তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসহ আমাদের সবার। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই নির্বাচনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: January 19, 2026 | Author: Chandradip News24