চিত্রনায়িকা ফারিন খান বড় পর্দার পাশাপাশি ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তবে অভিনয়ের কাজ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টের কারণে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। ফেসবুকে ধারাবাহিক স্ট্যাটাসে ফারিন দাবি করেছেন, গত দুই বছর ধরে তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন।
যদিও এসব পোস্টে তিনি কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মিডিয়া অঙ্গনেরই একজন প্রভাবশালী কর্মী। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে সব তথ্য ও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনবেন।
গত ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারিন খান লেখেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি এবং নিয়মিত নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ওই পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, আর নীরব থাকবেন না এবং নির্দিষ্ট একটি তারিখে সবকিছু প্রকাশ করবেন।
এরপর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে দেওয়া আরেকটি পোস্টে ফারিন খান বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—জুলুম, অত্যাচার, মিথ্যাচার ও প্রতারণা বড় পাপ, নাকি বিশ্বাস করা ও ভালোবাসাই বড় অপরাধ। তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ধর্মীয় পরিচয় বা ভাবমূর্তির আড়ালে থাকা কোনো ব্যক্তি তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
একই দিনের বিকেলে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে ফারিন খান আরও স্পষ্ট অবস্থান নেন। এবার তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, যিনি তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তিনি একজন মিডিয়াকর্মী। পোস্টে ফারিন লেখেন, একজন মিডিয়াকর্মী হয়েও ওই ব্যক্তি কতটা নির্মম ও অন্যায়কারী, তার প্রমাণ তিনি নির্ধারিত তারিখে সামনে আনবেন।
ফারিন খানের এমন একের পর এক বক্তব্যে শোবিজ অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা। কে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি, কী ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দর্শক, সহকর্মী ও নেটিজেনদের মধ্যে। অনেকেই ফারিনের সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার অনেকে অপেক্ষায় আছেন ১৫ ফেব্রুয়ারির, যখন তিনি সবকিছু প্রকাশ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মানসিক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফারিন খানের ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





