বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের আবাদি জমি দ্রুত হারে কমছে। উন্নয়ন প্রকল্প, বসতি নির্মাণ, লবণাক্ততা এবং নদীভাঙনের কারণে চাষযোগ্য জমি প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত—ঝড়-ঝঞ্ঝা, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস—কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলটিকে বহুমুখী ঝুঁকিতে ফেলেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ১৭০ জন। আবাদি জমি কমলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ ৮ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর, আর অনাবাদি জমি প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর।
তবে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতার কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া গ্রামে প্রায় আড়াই হাজার একর জমি এক যুগ ধরে অনাবাদি রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, খালে অনিয়ন্ত্রিত বাঁধ ও কালভার্টের কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে চাষযোগ্য জমি হারাচ্ছে। চরকাউয়ার কৃষক সেলিম মীর বলেন, “খালে একটি কালভার্ট দেয়ার পর থেকেই একরের পর একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে।”
কৃষক সবুজ গাজী এবং আজিজুল ব্যাপারী আরও জানিয়েছেন, বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও গরমে খরার প্রভাব এবং নদীভাঙনের কারণে জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে আবাদি জমি প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর কমেছে, যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্প, ইটভাটা, বসতি নির্মাণ, লবণাক্ততা ও নদীভাঙন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, আম্পান এবং জলবায়ুর অনিয়মিত আচরণও কৃষিকে সংকটে ফেলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, “গ্রামীণ বসতবাড়ির আঙিনায় পতিত জমিও চাষের আওতায় আসছে। যদি আরও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা যায়, তাহলে একই জমি থেকে ৪-৫ গুণ বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব।”
কৃষি বিভাগ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





