বরিশালে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাশেদুল শেখ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত রাশেদুল শেখ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক এলাকার বারোকানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালাম শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তিনি বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে চলমান তীব্র শীত ও উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে বরিশালের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও হকাররা। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে অনেককেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।
শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। যদিও কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েই চলেছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের একই দিনে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, অর্থাৎ চলতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





