বরগুনার বামনা উপজেলায় দুইজনের সম্মতিমূলক বিবাহবিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রীর দায়ের করা এক মামলায় হয়রানির অভিযোগ করেছেন ইতালিপ্রবাসী মো. জাকির ধলু (নাম পরিবর্তিত না)। তিনি দাবি করেন, পারিবারিক সমঝোতা অনুযায়ী বিচ্ছেদ সত্ত্বেও সাবেক স্ত্রী মিথ্যা মামলা করে তাকে হয়রানি করছেন।
জাকির ধলু জানান, ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নে কাবিন সম্পন্ন হয়ে তার বিয়ে হয় কানিজ মাহমুদা রিমার সঙ্গে। দীর্ঘদিন তিনি বিদেশে কাজ করেছেন এবং পরিবারের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠিয়ে আসতেন। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন কলহ উচ্চারণ পায়; পরে স্ত্রী অন্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে পরিবারের লোকজনকে বিষয় জানায়। পরিস্থিতি স্থির করতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ২০২৫ সালের ৭ মার্চ বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং কাবিনের অর্থ পরিশোধ করা হয়।
বিচ্ছেদের এক মাস পরই সাবেক স্ত্রী জাকির, তার বাবা ও ভাইকে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পর জাকিরের বাবা ও ভাইকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; কিন্তু জাকির নিজে এখনও মামলা থেকে অব্যাহতি পাননি—যার কারণে তিনি নিজেকে হয়রানির শিকার মনে করছেন।
অন্যদিকে মামলাকারী কানিজ মাহমুদা রিমা অভিযোগ করেন, বিবাহ জীবনে তার ওপর বারবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হয়েছে এবং স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিবাহের সময় আমার পরিবার যা-ই দিয়েছিল তা দিয়েই আমি স্বামীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতি অযোগ্য হয়ে পড়লে বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।’ রিমা উল্লেখ করেছেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে অংশ কিছু ব্যক্তি আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
স্থানীয় আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ — যা মিথ্যাচার বা হয়রানির দায় নির্ধারণ করবে। জাকির দাবি করে বলছেন, তিনি মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি চান এবং দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ন্যায়রক্ষা চান। মামলা ও তদন্ত এখনও চলছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





