পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত জুলাই সনদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দলের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলের প্রস্তাব
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। এজন্য সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে সরে আসা ও বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ প্রয়োজন। প্রয়োজনে নিরপেক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধান উপদেষ্টার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থা ফেরানো নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরপিও বা নির্বাচন বিধি চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিতে হবে। অঢেল অর্থব্যয়, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে উগ্র বৈরিতা ও সহিংসতায় নিয়ে যাওয়া আত্মঘাতী হবে এবং এতে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
জুলাই সনদ নিয়ে দলের অবস্থান
প্রস্তাবিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, এতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরই যথেষ্ট, আলাদা অঙ্গীকারনামার প্রয়োজন নেই। দলটি অভিযোগ করে, সনদে অন্তর্ভুক্ত কিছু প্রস্তাব সংবিধানের দর্শন ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সাইফুল হক বলেন, জনগণের অভিপ্রায় নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র পথ হলো নির্বাচন। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমঝোতা দলিলকে জনগণের চূড়ান্ত মত হিসেবে গণ্য করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, সনদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দলটির অবস্থান ইতিবাচক। প্রয়োজনে সরকার প্রধান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।
গণভোট প্রসঙ্গে
দলটি জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবকে অবাস্তব আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সংবিধানশূন্য নয়, বরং বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তাই সংবিধান সভার নির্বাচন কিংবা গণভোট— দুটিই অপ্রাসঙ্গিক।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি পুনর্ব্যক্ত করে, তারা বিদ্যমান সংবিধানকে গণতান্ত্রিক, দায়বদ্ধ, ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য কাজ করছে, নতুন কোনো সংবিধান প্রণয়নের জন্য নয়।





