চলমান ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা বলে চিহ্নিত করাকে ‘ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, এই আন্দোলন গণপ্রতিরোধের অংশ এবং একে ‘মব’ হিসেবে অভিহিত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
শুক্রবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,
“জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা নিছক কোনো দলীয় চুক্তির ফসল নয়, বরং ফ্যাসিস্ট আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি গণজাগরণের ফসল।”
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, গণহত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পূর্বতন সরকারের দোসরদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হলেও সেই দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। তবে তিনি বলেন,
“যেখানে সরকার ব্যর্থ, সেখানে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রহরী’ ছাত্র-জনতাই এগিয়ে আসছে।”
হেফাজতের এই নেতা আরও বলেন,
“আজকের ছাত্র-জনতার ফ্যাসিবাদবিরোধী ভূমিকা নিয়ে যেসব মহল ‘মব’ মন্তব্য করছে, তারা মূলত ভবিষ্যতের ফ্যাসিস্ট প্রকল্পের ছক একে নিচ্ছে। তবে ছাত্র-জনতা তা সফল হতে দেবে না।”
ইতিহাস প্রসঙ্গ টেনে ইসলামাবাদী বলেন,
“২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতা যে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে জীবন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে এক মহাকাব্যিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে।”
তিনি আরও বলেন,
“গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও এখনো ‘জুলাই বিপ্লব’ পূর্ণতা পায়নি। তাই ফ্যাসিবাদ মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণপ্রতিরোধ চলবে ইনশাআল্লাহ।”
হেফাজতের বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আংশিক হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, ছাত্র-জনতার যে কোন বিপ্লববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সংগঠনটি সক্রিয় থাকবে।





