কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কিছু উত্তরে ইলন মাস্ক–সংশ্লিষ্ট একটি নতুন তথ্যসূত্র ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাটজিপিটির একাধিক উত্তরে ‘গ্রকিপিডিয়া’ নামের একটি অনলাইন উৎসের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যা তৈরি করেছে ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশেষ করে জিপিটি–৫.২ মডেল ব্যবহার করে দেওয়া কিছু উত্তরে এই তথ্যসূত্র ব্যবহারের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রকিপিডিয়া মূলত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অনলাইন বিশ্বকোষ, যা চালু করা হয় গত বছরের অক্টোবরে।
ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই উইকিপিডিয়ার ওপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর দাবি, উইকিপিডিয়া রক্ষণশীল মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই অভিযোগ থেকেই বিকল্প হিসেবে গ্রকিপিডিয়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে, গ্রকিপিডিয়ার বহু নিবন্ধের ভাষা ও তথ্য সরাসরি উইকিপিডিয়ার সঙ্গে মিল রয়েছে। কোথাও কোথাও অনুলিপির অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি কিছু নিবন্ধে এমন দাবি ও শব্দচয়ন দেখা যায়, যা তথ্যগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কিছু লেখায় এইডস সংকটের জন্য পর্নোগ্রাফিকে দায়ী করা হয়েছে, আবার কোথাও দাসপ্রথার পক্ষে বিতর্কিত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও এক্সএআইয়ের চ্যাটবট ‘গ্রক’ বিভিন্ন কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে। এক সময় এটি নিজেকে ‘মেকা হিটলার’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যৌন বিকৃত ডিপফেক ছড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।
তবে সাম্প্রতিক যে বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা হলো গ্রকিপিডিয়ার তথ্য এখন আর শুধু ইলন মাস্কের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি একাধিক প্রশ্নের উত্তরে এই উৎস ব্যবহার করেছে। জিপিটি–৫.২ মডেলে অন্তত ১২টির বেশি প্রশ্নের উত্তরে নয়বার গ্রকিপিডিয়ার উল্লেখ পাওয়া গেছে।
তবে সব ধরনের বিষয়ে এই তথ্যসূত্র ব্যবহৃত হয়নি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলা কিংবা এইচআইভি–এইডস মহামারির মতো বহুল আলোচিত ও সংবেদনশীল ইস্যুতে চ্যাটজিপিটি গ্রকিপিডিয়ার তথ্য নেয়নি। বরং তুলনামূলক কম পরিচিত বিষয়েই এর ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে ইতিহাসবিদ স্যার রিচার্ড ইভান্সকে ঘিরে কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলো আগেই ভুল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
এদিকে শুধু চ্যাটজিপিটিই নয়, অ্যানথ্রপিকের তৈরি আরেকটি এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ও কিছু ক্ষেত্রে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যসূত্র যাচাই ও নিরপেক্ষতার বিষয়টি কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন ধরনের উন্মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় তথ্যসূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের জন্য যতটা সম্ভব বিস্তৃত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করা।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





