গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগে বিতর্কে সারা লাইফস্টাইল

Views: 49

দেশের পরিচিত পোশাক ব্র্যান্ড ‘সারা লাইফস্টাইল’-এর বিরুদ্ধে মানহীন পোশাক বিক্রি ও অনলাইন সেবায় গ্রাহক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব ও নতুন ডিজাইনের পোশাকের প্রচারণা চালালেও বাস্তবে বিদেশি ব্র্যান্ডের অবিক্রিত বা বাতিলকৃত স্টকলট পণ্য নিজেদের লোগো লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।

ক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব পোশাক সাধারণত ফুটপাত বা ছোট দোকানে কম দামে পাওয়া যায়, সেই একই পণ্য ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’র নাম করে সারা লাইফস্টাইলের শোরুমে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতারা জানতেই পারছেন না যে তারা আসলে স্টকলট পণ্য কিনছেন। বিষয়টিকে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকেই।

এমন অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন আব্দুর রউফ নামের এক ক্রেতা। তিনি গত ঈদে সারা লাইফস্টাইল থেকে একটি ফরমাল শার্ট-প্যান্ট কিনেছিলেন। কিছুদিন ব্যবহারের পরই পোশাকটি আর পরার উপযোগী থাকেনি। তার ভাষ্য, শার্টের কলার অল্প সময়ের মধ্যেই ছিঁড়ে যায় এবং নীল রঙের প্যান্ট মাত্র দুইবার ধোয়ার পরই রঙ ফিকে হয়ে যায়। তিনি বলেন, সারা নিজেদের সাশ্রয়ী ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে তাদের পোশাকের মান সেই দামের সঙ্গে কোনোভাবেই মানানসই নয়। নিউ মার্কেট বা স্থানীয় দোকানেই এর চেয়ে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান দীপান্বিতা নামের আরেক ক্রেতা। তিনি চার হাজার টাকা দিয়ে একটি থ্রি-পিস কিনেছিলেন। কয়েকবার পরার পরই কাপড়ের মান এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে সেটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তার অভিযোগ, দাম অনুযায়ী পোশাকের মান একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি যখন ধীরে ধীরে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর ওপর আস্থা তৈরি করছে, ঠিক সেই সময় সারার মতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশীয় ব্র্যান্ড নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, পুরো খাতের বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

শুধু অফলাইন নয়, অনলাইন সেবার ক্ষেত্রেও সারা লাইফস্টাইলের বিরুদ্ধে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাওয়া তো দূরের কথা, দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কোনো সঠিক তথ্য মেলে না। সারার ফেসবুক পেজের কমেন্ট বক্সে এসব অভিযোগের ছড়াছড়ি থাকলেও অভিযোগমূলক মন্তব্য দ্রুত ফিল্টার বা সরিয়ে ফেলা হয় বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

একজন ক্রেতা জানান, অনলাইনে কেনাকাটা করা একেবারেই উচিত নয়। তাদের সার্ভিস লেভেল এতটাই দুর্বল যে এক সিজনের অর্ডার আরেক সিজনে এসে পৌঁছায়। শওকত পারভেজ নামের আরেক গ্রাহক বলেন, তিনি বিকাশে টাকা পরিশোধ করার পর ২–৩ দিনের মধ্যে পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও ছয় দিন পার হয়ে গেলেও কোনো পণ্য পাননি।

প্রিমিয়াম সেবা ও মানসম্মত পোশাকের প্রত্যাশা নিয়ে সারা লাইফস্টাইলের ওপর আস্থা রেখেছিলেন ক্রেতারা। কিন্তু অন্য ব্র্যান্ডের পোশাকে নিজেদের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রির অভিযোগ সেই আস্থাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কৌশল শুধু একটি ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

অভিযোগের বিষয়ে সারা লাইফস্টাইলের হেড অব ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনস ফেরাজ হোসেন রুম্মান বলেন, এসব বিষয় মূলত গ্রাহক সেবার আওতাভুক্ত এবং Consumer Rights Protection Act অনুযায়ী সমাধানযোগ্য। তিনি জানান, গ্রাহকরা প্রথমে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে পারেন। তাতেও সমাধান না হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তার দাবি, যদি কোনো গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন এবং উপযুক্ত প্রমাণ দেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: January 16, 2026 | Author: Chandradip News24