গ্যাস আমদানিতে বড় প্রকল্পের পথে বাংলাদেশ

Views: 42

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে মহেশখালী–বাখরাবাদ তৃতীয় সমান্তরাল গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। প্রাক-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী এই অবকাঠামো নির্মাণে সময় লাগতে পারে প্রায় পাঁচ বছর। পাইপলাইনটি গড়ে উঠলে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়বে, যা ভবিষ্যতের গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দুইটি এফএসআরইউ মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যমান পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় আমদানি বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। এদিকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ক্রমাগত কমছে। একসময় দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে ২০ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন নেমেছে ১৭৪৮ মিলিয়নে। বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে, যা দেশের মোট উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়। সেখানে উৎপাদন দ্রুত কমে গিয়ে ৮৫৫ মিলিয়নে ঠেকেছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাসের এই ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলা একাধিক নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তৃতীয় এফএসআরইউ ও ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন। এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দৈনিক আমদানি সক্ষমতা ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে। ভাসমান টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে জি-টু-জি ভিত্তিতে দরপত্র দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে এবং সৌদি আরব, কাতার, আজারবাইজানসহ চারটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে সময় সাশ্রয় হলেও ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই এখনো আলোচ্য পর্যায়ে রয়েছে।
বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউর মধ্যে একটি সামিট গ্রুপ এবং অন্যটি এক্সিলারেট পরিচালনা করছে। তবে আগের সরকারের সময় সামিটের সঙ্গে নতুন চুক্তি হলেও নিরাপত্তা জামানত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তা বাতিল হয় এবং বিষয়টি আদালতে রয়েছে। এই কারণে নতুন টার্মিনালকে চতুর্থ টার্মিনাল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে যাতে জটিলতা এড়ানো যায়।

তবে শুধুমাত্র টার্মিনাল নির্মাণ করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। পাইপলাইন নির্মাণ এবং সংযোগ সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। পিডিপিপিতে পাঁচ বছরের সময়সীমা উল্লেখ থাকায় ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০২৭ সালের শুরুতে দেশে তীব্র গ্যাস সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বছরে গড়ে দৈনিক উৎপাদন ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমছে। এ অবস্থায় আমদানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই, কিন্তু এলএনজি আমদানি ব্যয়বহুল হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপও বাড়বে। পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণে সময়, ব্যয়, বিদেশি অর্থায়ন নির্ভরতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, বিদেশি অংশীদারিত্ব এবং সময় ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে সামলানো জরুরি। দেশীয় উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে চালিত এই বাস্তবতা বাংলাদেশের সামগ্রিক জ্বালানি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের দাবি তুলছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 

image_pdfimage_print

Posted on: December 22, 2025 | Author: Chandradip News24