পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক হোটেলের রুমে গোপনে পর্যটক দম্পতিদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মো. হালিম (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হালিম বরগুনার ফুলবুনিয়া এলাকার মৃত কামাল মূর্ধার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটায় ‘হোটেল কেয়ার’ নামে একটি টিনশেডের চার কক্ষবিশিষ্ট হোটেল ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে। জানা যায়, রাত ৪টার দিকে অভিযুক্ত হালিম একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে দু’টি কাপল রুমকে টার্গেট করে কৌশলে রুমে ঢুকে নারী-পুরুষ পর্যটকদের ভিডিও ধারণ করেন। পরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করারও চেষ্টা করেন।
অভিযোগকারী হোটেল মালিক মো. শাকিল বলেন, “রাতে দু’টি রুম ভাড়া দিয়ে আমি বিশ্রামে যাই। পরে জানতে পারি হালিম গভীর রাতে স্টাফদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পর্যটকদের রুমে ঢুকে ভিডিও ধারণ করেছে। সকালে বিষয়টি জেনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাই।”
ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হালিমকে আটক করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, “পর্যটকদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই। অভিযুক্তের মোবাইলে ভিডিও পাওয়া যাওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় কাজ করছি। এ ধরনের অপরাধীদের জন্য এটি একটি কঠোর বার্তা—এমন দুঃসাহস আর কেউ দেখালে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়রা বলছেন, কুয়াকাটায় প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আরও বাড়ানো জরুরি।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





