কুয়াকাটায় হোটেলের বর্জ্যে পরিবেশ হুমকিতে

Views: 42

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখরিত থাকে। সমুদ্র ও প্রকৃতির টানে ভিড় জমানো এসব মানুষের আনন্দঘন ভ্রমণ এখন হুমকির মুখে পড়ছে। জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল সি-ভিউ থেকে নিয়মিত বর্জ্য সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শুধু সৈকতের পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে না, স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণপিয়াসীরা।

স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতে হোটেলটির টয়লেটের বর্জ্য ও ময়লা পানি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি সমুদ্রে ফেলছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এসব বর্জ্য ফেলা হয়। ভোরে সৈকতের চারপাশে বাজে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমুদ্রস্নানে নামা পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়েন, স্থানীয়দেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরের দিকে সৈকতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন ভোরে সৈকতে গেলে বাজে গন্ধ পাওয়া যায়। এতে শুধু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না, আমাদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক রুমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত দূর থেকে কুয়াকাটা এসেছি, কিন্তু সৈকতে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। দুর্গন্ধে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটকরা আর আসতে চাইবেন না।”

অভিযোগের বিষয়ে হোটেল সি-ভিউয়ের ম্যানেজার মো. সোলায়মান বলেন, “আমরা টয়লেটের বর্জ্য ফেলি না। প্রতিদিন রাত আড়াইটার থেকে তিনটার মধ্যে শুধু গোসলের পানি বালুর মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়।” তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিষয়টি একেবারেই সত্য নয় এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলে আসছে।

কুয়াকাটা উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, “এটি পরিবেশ আইনবিরোধী কাজ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা ট্যুরিজম ব্যবসায়ী সমিতির এক সদস্য বলেন, “পর্যটন নগরের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এ ধরনের অনিয়ম পুরো কুয়াকাটার জন্য ক্ষতিকর।”

কলাপাড়ার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ইয়াসিন সাদেক জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এভাবে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকলে কুয়াকাটার সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা তার আকর্ষণ হারাবে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম
image_pdfimage_print

Posted on: September 13, 2025 | Author: Chandradip News24