সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই আকাশে মেঘ আর মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মিলেমিশে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে। এ সময় সাগরের উন্মত্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন অংশে নারী-পুরুষ-শিশুসহ সব বয়সী মানুষকে ঢেউয়ের সঙ্গে খেলতে, ছবি তুলতে এবং সমুদ্রে গোসল করতে দেখা গেছে।
শুঁটকি পল্লি, গঙ্গামতি সৈকত, রাখাইন নারী মার্কেট, রাখাইন পল্লি, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ইলিশ পার্ক, লেম্বুর বন এবং সৈকতের ঝাউবাগানসহ আশপাশের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষার মৌসুমে কুয়াকাটার বিশাল ঢেউই এখন প্রধান আকর্ষণ, যা ছুটির দিনে পর্যটকদের জন্য বিশেষ উপভোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নূর ইসলাম বলেন, “কুয়াকাটার বিশাল ঢেউ উপভোগ করতে অসাধারণ লাগছে। পরিবার নিয়ে আসায় আনন্দটা আরও বেড়েছে।”
খুলনা থেকে আসা ফারহানা আক্তার জানান, “বর্ষার ঢেউয়ের মজা নেওয়ার জন্যই এখানে আসা। ভিড় থাকলেও সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।”
সৈকত লাগোয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মহিবুল্লাহ বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকদিন পর্যটকশূন্য ছিল কুয়াকাটা। তবে ছুটির দিনে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসায় ব্যবসা আবারও জমে উঠেছে।”
এদিকে হোটেল ব্যবসায়ীরাও পেয়েছেন ইতিবাচক সাড়া। হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ফরাজী জানান, বিচ সংলগ্ন হোটেলগুলোতে শতভাগ বুকিং থাকলেও শহরের ভেতরের হোটেল-মোটেলগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের উপস্থিতি কুয়াকাটার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশও কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তারা নিরাপদে ঢেউ উপভোগ করেন।”
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





