কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আদালতে মেটা-ইউটিউব

Views: 28

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলছে—এই প্রশ্ন এখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বড় আকারে আলোচনায়। লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত এক বিচার, যেখানে আসামির তালিকায় রয়েছে প্রযুক্তি জগতের দুই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান মেটা ও ইউটিউব। অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্ল্যাটফর্মের নকশা ও ব্যবহার পদ্ধতি কিশোরদের মানসিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই মামলা দায়ের করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণী, যিনি আদালতে কেজিএম নামে পরিচিত। তার সঙ্গে সহ-বাদী হিসেবে রয়েছেন তার মা ক্যারেন গ্লেন। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকেন। নোটিফিকেশন, অন্তহীন স্ক্রলিং এবং একের পর এক ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থাকে তারা পরিকল্পিত আসক্তি তৈরির কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অ্যালগরিদম নির্ভর কনটেন্টের কারণে ওই তরুণীর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি হতাশা ও উদ্বেগে ভুগতে শুরু করেন। শুরুতে এই মামলায় টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের নাম থাকলেও বিচার শুরুর আগেই তারা আলাদা সমঝোতায় পৌঁছায়। ফলে এখন মূলত মেটা ও ইউটিউবই আদালতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, সমস্যার মূল কনটেন্ট নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের নকশা। এমনভাবে ফিড সাজানো হয় যাতে ব্যবহারকারীরা বারবার ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকেন। কিশোর বয়সে আত্মনিয়ন্ত্রণ কম থাকায় তারা বেশি ঝুঁকিতে পড়ে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, শরীর নিয়ে নেতিবাচক তুলনা এবং অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই ধরনের প্রায় দেড় হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মেটা জানিয়েছে, তারা কিশোরদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা যুক্ত করেছে, যেখানে গোপনীয়তা সুরক্ষা ও অভিভাবক নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। ইউটিউবও দাবি করেছে, সংবেদনশীল কনটেন্টে বিধিনিষেধ আরোপ, বয়স শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং প্যারেন্টাল কন্ট্রোল যুক্ত করা হয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, কেবল নিরাপত্তা টুল নয়, প্ল্যাটফর্মের মূল কাঠামোই মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে এই বিচারকে তাই গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ, নীতিমালার পরিবর্তন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নিয়মে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে এই রায়ের মাধ্যমে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: February 1, 2026 | Author: Chandradip News24