পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান বিচারিক হাকিম মো. শহীদুল্লাহ জানিয়েছেন, কলাপাড়া উপজেলার বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই কলাপাড়ায় আধুনিক মানের নতুন আদালত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সীমিত জায়গার ভাড়াটে ভবনে আইনজীবী, বিচারক ও বিচারপ্রার্থী মানুষজন চরম সংকটে রয়েছেন। এজন্য আগামী মাসেই বড় পরিসরের একটি নতুন ভবনে আদালত স্থানান্তর করে কার্যক্রম শুরু করা হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা সমস্যার অবসান ঘটবে এবং সবার জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
বুধবার দুপুরে কলাপাড়া চৌকি আদালতের নতুন ভাড়াটে ভবন পরিদর্শন শেষে উপজেলা বার ভবনে জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারিক হাকিম আরও জানান, শুধু কলাপাড়ায় নয়, দেশের আরও ১৪টি জেলায় নতুন জেলা জজ আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য নকশা প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অচিরেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, “আমি কাউকে না জানিয়েই কলাপাড়া আদালত ঘুরে দেখেছি। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ নিজের চোখে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে নতুন ভাড়াটে ভবনে আদালত স্থানান্তর ও জাজেজ কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রক্রিয়া অনুমোদিত হয়েছে। খুব শিগগিরই কলাপাড়ার মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন।”
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোরশেদ আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. সালাহউদ্দিন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ পারভেজ আহমেদ, কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাব্বি ইসলাম রনি, সিনিয়র সহকারী জজ মো. মহিবুল হাসান, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনসহ আরও অনেকে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা জজ আদালতের বিচারকরা কলাপাড়া চৌকি আদালতে পৌঁছালে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। পরে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন এবং কলাপাড়ার বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।





