এক নজরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

Views: 32

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা রাজনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল ঘটনাবহুল।


ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

বেগম খালেদা জিয়ার পুরো নাম খালেদা খানম পুতুল, যিনি ইতিহাসে পরিচিত খালেদা জিয়া নামে। তাঁর জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে (কিছু সূত্রে ১৯৪৬ সাল উল্লেখ করা হয়)। জন্মস্থান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ইস্কান্দার মজুমদারতৈয়বা মজুমদার দম্পতির ঘরে। শিক্ষাজীবনে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, দিনাজপুরে অধ্যয়ন করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।


ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি। এই সময়েই তিনি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন।


রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও নেতৃত্ব

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসেন।

স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত সাত-দলীয় জোট প্রায় নয় বছর ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলন চালায়, যা শেষ পর্যন্ত এরশাদ সরকারের পতনে ভূমিকা রাখে।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন দফা দায়িত্ব

বেগম খালেদা জিয়া তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—

  • প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬):
    এই মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
  • দ্বিতীয় মেয়াদ (১৯৯৬):
    এই মেয়াদ ছিল স্বল্পকালীন।
  • তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬):
    এ সময় তিনি পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেন।

মামলা, কারাবাস ও মুক্তি

পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা হয় এবং তিনি বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন।
২০১৮ সালে তিনি কারাবন্দি হন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—

  • বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ
  • দেশের বাইরে না যাওয়া
  • রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না হওয়া

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাঁর দণ্ড মওকুফ করা হয় এবং তিনি পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন।


সর্বশেষ অবস্থা

২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন
বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ফজরের নামাজের পরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: December 30, 2025 | Author: Chandradip News24