জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির অধীনে থাকা দুটি সহযোগী কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসব সহযোগী প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে।
ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন আহসান মঞ্জুর অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের ম্যানেজিং পার্টনার মো. রাগিব আহসান। একই সঙ্গে তিনি ইন্ট্রাকোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড এবং ইন্ট্রাকো অটোমোবাইলস লিমিটেডের হিসাবও নিরীক্ষা করেন। সেখানে নিরীক্ষকের মতামতে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং আর্থিক অবস্থার দুর্বলতার কারণে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম চালু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের মালিকানা রয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আর্থিক ফলাফলেও। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটি প্রায় ৫৬ লাখ টাকার লোকসান গুনেছে। নিরীক্ষক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির টিকে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হলেও ইন্ট্রাকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কার্যক্রম পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে ইন্ট্রাকো অটোমোবাইলস লিমিটেডেও ইন্ট্রাকোর মালিকানা ৯৫ শতাংশ। জমির মালিকের সঙ্গে ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই সহযোগী কোম্পানিটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে করা বিনিয়োগ অন্য একটি নন-পাইপ গ্যাসলাইন ইউনিটে স্থানান্তরের বিষয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইন্ট্রাকোর পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্রও বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা সতর্কবার্তা দিচ্ছে। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২১ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৪৫ পয়সায়।
২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। ওই বছরে ইন্ট্রাকোর শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮৬ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৮৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১৩ টাকা ২৪ পয়সায়।
এর আগের ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে। সে সময় শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৮৮ পয়সা, যেখানে তার আগের বছরে এই আয় ছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা।
২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভে রয়েছে ৩২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে প্রায় ৩০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক ৯২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় ৪৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার।
বিশ্লেষকদের মতে, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং নিরীক্ষকের এমন সতর্ক মন্তব্য ইন্ট্রাকোর সামগ্রিক ঝুঁকির দিকটি নতুন করে সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর বিনিয়োগকারীদের।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





