বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২৪টি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে। সম্প্রতি ইউজিসির বাজেট অডিট টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বিষয়ে ত্রুটি ও অনিয়ম চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত ৬টি এবং রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত ৪টি বিষয় উল্লেখযোগ্য।
যদিও ইউজিসির এই আপত্তি রয়েছে, তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের নির্দেশে পদোন্নতি বোর্ড কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। ১৯ অক্টোবর থেকে বোর্ড কার্যক্রম শুরু হয়ে ইতোমধ্যে অধিকাংশ বিভাগের বোর্ড সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের বোর্ড ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
ইউজিসির তত্ত্বাবধানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা ইউজিসির অডিট আপত্তির কারণে আটকে রাখা হয়েছে। সংশোধিত বাজেট বর্তমানে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। আটকে রাখা বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে: অনুমতিহীন দৈনিক মজুরি কর্মচারী, বিআরটিসি বাস ভাড়া, পরিবহন ব্যয়, আনসার নিয়োগ, আবাসিক ভবন ভাড়া, আউটসোর্সিং ও শ্রমিক মজুরি এবং বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম।
পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রধান আপত্তি হলো ২৪টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে ইউজিসির অনুমোদিত মাত্র ২টি শূন্যপদ। ৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৭টি ব্লক করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। অবশিষ্ট ২টি শূন্যপদেও নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া চলতি বছরের ৭ জুলাই প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১০ জন প্রভাষক নিয়োগে ৬টি পদের ইউজিসির অনুমোদন ছিল না। বাকি ৪টি পদেও সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।
রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত আপত্তির মধ্যে রয়েছে, তিনি অধ্যাপক হলেও কেন সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কমিটির সদস্য, কেন ক্যাম্পাসে বসবাস করেন না এবং কেন গাড়ি ব্যবহার করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ববি অর্থ দফতরের উপপরিচালক আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ইউজিসির অডিট রিপোর্ট পাওয়া গেছে, তবে সকল বিষয়ে উচ্চতর কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত দেবেন। ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, ইউজিসির লিখিত আপত্তি পেলে তা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





