ডেস্ক রিপোর্ট:: আল্লাহ তা’আলা যাকে চান, তাকেই অঢেল ধন-সম্পদ দান করেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তিনি তাকে ভালোবাসেন। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে দেন হিকমাহ—অর্থাৎ প্রজ্ঞা। আর যার মধ্যে হিকমাহ আছে, তার অন্তরে থাকে সাকিনা—শান্তি, ধৈর্য ও আত্মতৃপ্তি।
আমরা অনেক সময় দেখি, টেবিল ভর্তি খাবার থাকলেও কারো মন ভরে না। কারণ, সেখানে হিকমাহ নেই, নেই সাকিনা। অন্যদিকে কেউ কেউ আলু ভর্তা আর ডাল দিয়েও পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায়, কারণ সে পেয়েছে হিকমাহ, সে জানে সন্তুষ্ট থাকার মানে।
একজন মানুষ উচ্চশিক্ষিত ও সুন্দর জীবনসঙ্গী পেয়েও অসুখী থাকতে পারে, আবার বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েও দুঃখী হতে পারে—কারণ তার মধ্যে হিকমাহ নেই, সাকিনা নেই।
আল্লাহ যাকে হিকমাহ দেন, সে সব অবস্থায় তৃপ্ত ও প্রশান্ত থাকে। নিজের অবস্থা ও সীমাবদ্ধতাকে সে মানিয়ে নেয়। আর এটিই রিযিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
রিযিক মানে শুধু টাকা-পয়সা না। এর বিস্তৃতি অনেক বেশি—
সর্বনিম্ন স্তর: সম্পদ ও অর্থ
সর্বোচ্চ স্তর: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা
সর্বোত্তম স্তর: নেককার স্ত্রী ও সন্তান
পূর্ণতা: আল্লাহর সন্তুষ্টি
রিযিক নির্ধারিত—কে কত টাকা আয় করবে, কে কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবে, কবে কোথায় মারা যাবে—সবই পূর্বনির্ধারিত। এমনকি কে কতটা খাবার খাবে, কোন ফল খাবে, তাও নির্দিষ্ট।
যে ফলটি আজ আপনি খাচ্ছেন, তা হয়তো হাজারো মানুষের হাত ঘুরে আপনার কাছে এসেছে। কারণ, এটি আপনার রিযিক। যত বাধা আসুক না কেন, যদি তা আপনার জন্য নির্ধারিত হয়—তবে তা আপনাকেই পৌঁছাবে।
এমনকি কোনো আত্মীয় যদি আপনার বাসায় এসে খায়, তবে সে আপনার খাবার খাচ্ছে না—সে নিজের রিযিকই গ্রহণ করছে, আর আপনি হচ্ছেন কেবল মাধ্যম।
আল্লাহ বলেছেন—“পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে নেননি।”
(সুরা হুদ: আয়াত ৬)
আরও বলেছেন—“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ খুলে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
(সুরা ত্বালাক: আয়াত ২-৩)
আমরা যেন হালাল পথে আস্থাশীল থাকি, হিকমাহ অর্জন করি, রিযিকের সঠিক অর্থ বুঝে তাতে সন্তুষ্ট থাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিযিক দান করুন, হারাম থেকে রক্ষা করুন।
(আমিন)





