বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারেই তিনি জয় করেছিলেন কোটি ভক্তের হৃদয়। রোমান্টিক, প্রতিবাদী, পারিবারিক কিংবা অ্যাকশন—সব চরিত্রেই অনন্য অভিনয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সময়ের সেরা নায়ক।
১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর স্বপ্নযাত্রা। মৌসুমীর সঙ্গে সেই জুটি দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। এরপর শাবনূরের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল অধ্যায় রচনা করেন তিনি। একে একে ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’সহ ২৭টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এর বেশিরভাগই ছিল ব্যবসাসফল।
স্টাইল, ফ্যাশন ও অভিনয়ের দাপটে তিনি হয়ে উঠেছিলেন তারুণ্যের আইকন। হুডি, লং কোট, কাউবয় হ্যাট কিংবা গগলস—প্রতিটি ফ্যাশনই দর্শকের কাছে ছিল নতুনত্বের প্রতীক। তাঁর সিনেমার গানগুলোও আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই থেমে যায় এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আজও তাঁর মৃত্যুর রহস্য ঘিরে রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। সে সময়ের সংবাদে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল পুরো জাতি। অসংখ্য ভক্ত মেনে নিতে পারেননি প্রিয় নায়কের অকাল মৃত্যু। এমনকি কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনই চলচ্চিত্রের আকাশে হয়ে ওঠেন ‘সালমান শাহ’। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, মা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও শিল্পের প্রতি ঝোঁক থাকলেও সিনেমায় আগমন ছিল হঠাৎ। আর সেই আগমনের মধ্য দিয়েই বাংলা চলচ্চিত্র পেল এক অবিস্মরণীয় নায়ক।
বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতারাও স্বীকার করেন, তাঁদের অনুপ্রেরণার উৎস সালমান শাহ। শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, আরিফিন শুভসহ অনেকে তাঁকে অনুসরণ করেন।
আজ তাঁর মৃত্যুর দিন, কিন্তু সালমান শাহকে হারালেও তিনি চিরকাল অমলিন থেকে গেছেন দর্শকের হৃদয়ে। বাংলা সিনেমার প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর নাম থাকবে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫





