ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরুর পর দীর্ঘ ১২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছেন। শনিবার (৫ জুলাই) পবিত্র আশুরার আগের দিন তেহরানের ইমাম খোমেইনি মসজিদে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। এই উপস্থিতি ইরানি জনগণের মধ্যে ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খামেনি প্রবীণ শিয়া ধর্মীয় নেতা মাহমুদ কারিমিকে অনুরোধ করছেন দেশাত্মবোধক গান “ও ইরান” পরিবেশনের জন্য, যা সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই গান এবং খামেনির উপস্থিতি, উভয়ই ইরানিদের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
১৩ জুন শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষে ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয় এবং ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হানে। অভিযানে অংশ নেয় ১২৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ।
যুদ্ধ চলাকালীন খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও তিনি এ সময়ের মধ্যে তিনটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, তবুও সরাসরি তার দেখা না পাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দেয়। অবশেষে আশুরার আগের দিন তার সরাসরি উপস্থিতি সেই সকল গুজব ও শঙ্কার অবসান ঘটিয়েছে।
প্রতিবছর আশুরার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খামেনির উপস্থিতি নিয়মিত ঘটনা হলেও এবার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছিল। তবে এবারও তিনি উপস্থিত থেকে তার নেতৃত্ব ও মনোবলের বার্তা দিয়েছেন। আশুরা মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন, যেদিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন। শোকাবহ এই দিনে খামেনির উপস্থিতি ইরানি সমাজে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম





